'আমার মাইয়াটারে কী আর খুঁজে পাব... যা হয়েছে ভালো হয়েছে,' এনকাউন্টার শুনেই কাঁদতে কাঁদতে বললেন গাইঘাটার নির্যাতিতার বাবা-মা
Gaighata Encounter: “যা হয়েছে ভালো হয়েছে, মাইয়াটারে আর তো পাব না!” গাইঘাটায় পুলিশি এনকাউণ্টারে মূল অভিযুক্তের মৃত্যুর পর কেঁদে উঠলেন নির্যাতিতার বাবা-মা। বারুইপুরের পর এবার গাইঘাটা। নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের মূল অভিযুক্ত পুলিশি এনকাউণ্টারে নিহত।
কমলাক্ষ ভট্টাচার্য: "আমার মেয়ে হারিয়ে গেছে। আমার মেয়েকে কি আর পাব! আর পাব না। যা শুনেছি, তাতে পুলিসের কাছ থেকে পালানোর চেষ্টা করছিল, পুলিস-ই গুলি করছে। কিন্তু আমার জিনিস কী আর পাব! আমার মাইয়াটারে কী আর খুঁজে পাব? সরকারের নির্দেশে, যা হয়েছে ভালো হয়েছে। পালানোর চেষ্টা করলে, তাকে তো গুলি করবেই।" গাইঘাটায় পুলিসের গুলিতে এনকাউন্টারে মূল অভিযুক্ত প্রহ্লাদ দাসের নিহত হওয়ার ঘটনায় বলছেন নির্যাতিতা নাবালিকার বাবা। হতভাগ্য মা কান্নাভেজা গলায় বললেন, "মারা গেছে। ভালো হয়েছে। শুনলাম। পালানোর চেষ্টা করেছে। তখনই পুলিস গুলি চালিয়েছে।"
পরিবারের বক্তব্য
বারুইপুরের পর গাইঘাটা। রাজ্যে ফের এনকাউন্টারে ধর্ষণে অভিযুক্ত মূল অভিযুক্তের মৃত্যু। সেই ঘটনায় পুলিস-প্রশাসনের ভরসা ফিরে পাচ্ছেন নির্যাতিতার পরিবার। মৃত নাবালিকার মামা বললেন,"ভগবান আছে। প্রশাসন বিচার দিয়েছে আমাদের। যে ক্ষতি আমাদের হয়েছে। মা-বাবার কোল খালি হয়েছে। এরকম দুর্ঘটনা ভবিষ্যতে যেন আর কোনও পরিবারে না ঘটে।" লক্ষ্মীপুজোর আগের রাতে মায়ের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী একটি অনুষ্ঠানে গিয়েছিল গাইঘাটার ওই নাবালিকা। সেখান থেকে ফেরার পথেই নিখোঁজ হয়ে যায় সে। পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরদিন সকালে বাড়ির কাছেই একটি বাড়ির পিছন থেকে নাবালিকার ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার হয়। নাবালিকাকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ তোলে তার পরিবার। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনাটি কী?
রবিবার কোজাগরী লক্ষ্মী পুজোর দিন প্রতিবেশীর বাড়ির পিছন দিক থেকে বিবস্ত্র অবস্থায় উদ্ধার হয় ওই নাবালিকার ক্ষতবিক্ষত দেহ। পরিবার ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ। দেহ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়। ওদিকে তদন্তে নেমে পুলিস মূল অভিযুক্ত প্রহ্লাদ দাসকে গ্রেফতার করে হেফাজতে নেয়। জানা গিয়েছে, শনিবার রাতে গাইঘাটা বাজার এলাকায় বিজয়া সম্মিলনীর অনুষ্ঠান ছিল। সেখানেই মায়ের সঙ্গে গিয়েছিলেন নির্যাতিতা। ঘটনার তদন্তে নেমে দ্রুত অভিযুক্ত প্রহ্লাদ দাসকে গ্রেফতার করে গাইঘাটা থানার পুলিশ।
পুলিস সূত্রে খবর, জিজ্ঞাসাবাদের সময় অভিযুক্ত অপরাধের কথা স্বীকার করে নেয়। এরপরই সোমবার রাতে ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য অভিযুক্তকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে ফেরার সময় শারীরিক জরুরি প্রয়োজনের কথা বলে, পুলিশের আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে অভিযুক্ত প্রহ্লাদ দাস পালানোর চেষ্টা করে বলে অভিযোগ। অভিযোগ, অভিযুক্ত প্রহ্লাদ দাস পুলিসকর্মীদের লক্ষ্য করে গুলিও চালায়। যাতে আহন হন এক এএসআই। এরপরই পালটা গুলি চালায় পুলিস। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে, চিকিৎসকেরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
পুলিসের বক্তব্য
উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটায় নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় পুলিসের গুলিতে মৃত্যু হয় মূল অভিযুক্ত প্রহ্লাদ দাসের । পুলিসের দাবি, ঘটনার পুনর্নির্মাণ করে ফেরার পথে পুলিসের আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে পুলিসকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় অভিযুক্ত প্রহ্লাদ দাস। পাল্টা পুলিসের গুলিতে মৃত্যু হয় তার। এই ঘটনায় তদন্তকারী এক পুলিস আধিকারিকও আহত হয়েছেন বলে পুলিস সূত্রে খবর। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্তের ছোড়া গুলি পুলিশের গাড়িতে লাগে এবং ঘটনায় তদন্তকারী এক পুলিশ আধিকারিক আহত হন। পরিস্থিতি সামাল দিতে পাল্টা গুলি চালায় পুলিস।
পুলিশের গুলিতে নিহত নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত প্রহ্লাদ দাস। এই ঘটনায় শিমুলপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধানও ধন্যবাদ জানিয়েছেন পুলিসকে।
আরও পড়ুন, ‘একদিনেই হবে না, তবে ভয় ঢুকবে, ধর্ষকদের ভয় পাওয়াতে হবে!’ গাইঘাটা এনকাউন্টারে সাফ কথা দিলীপ ঘোষে
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X, Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)