SIR-এ নাম বাদ গিয়েছে? বাদ পড়া ভোটারদের জন্য নির্বাচন কমিশনের বিরাট নির্দেশিকা, এখুনি জানুন
Form 6 voter list Big Update: খসড়া ভোটার তালিকায় নাম নেই? ফর্ম ৬ পূরণ নিয়ে বড় স্বস্তির নির্দেশিকা দিল নির্বাচন কমিশন। দূর হলো মিথ্যা ঘোষণার ভয় ও শাস্তির আশঙ্কা।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: দেশজুড়ে ভোটার তালিকার সংশোধনী এবং বাদ পড়া নাম ঘিরে তৈরি হওয়া তুমুল বিতর্কের মাঝে বড় স্বস্তির খবর দিল নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India বা ECI)। সম্প্রতি প্রকাশিত খসড়া ভোটার তালিকা (Draft Electoral Roll) থেকে যাঁদের নাম বাদ পড়েছে, তাঁদের চূড়ান্ত তালিকায় (Final Voter List) নাম তোলার প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও শঙ্কামুক্ত করতে জারি হলো নতুন নির্দেশিকা। কমিশনের স্পষ্ট বার্তা-- ফর্ম ৬ (Form 6) পূরণ করার ক্ষেত্রে কোনওরকম আইনি পদক্ষেপ বা মিথ্যা ঘোষণার (false declaration) ভয় পাওয়ার প্রয়োজন নেই।
কেন এই বিভ্রান্তি ও ভয় তৈরি হয়েছিল?
সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, ১৮ বছর পূর্ণ হওয়া নতুন ভোটাররা ফর্ম ৬ জমা দেন। অন্যদিকে ঠিকানা পরিবর্তন বা সংশোধন থাকলে ফর্ম ৮ ব্যবহৃত হয়। খসড়া তালিকায় নাম কাটা যাওয়ার পর বহু উপভোক্তা ফর্ম ৬ পূরণ করতে গিয়ে আশঙ্কায় ভুগছিলেন:
মিথ্যা ঘোষণার ভয় (Fear of False Declaration): আগে নাম থাকা সত্ত্বেও ‘নতুন আবেদনকারী’ হিসেবে ফর্ম ৬ জমা দিলে জনপ্রতিনিধিত্ব আইনে (Representation of the People Act, 1950) শাস্তির মুখে পড়তে হবে কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছিল চরম ভীতি।
ফর্ম ৮ বনাম ফর্ম ৬-এর দ্বন্দ্ব: বাতিল হওয়া ভোটারদের ক্ষেত্রে ফর্ম ৮ প্রযোজ্য হবে নাকি ফর্ম ৬, তা নিয়ে প্রশাসনিক স্তরেও ধোঁয়াশা ছিল।
কমিশনের নতুন নির্দেশিকায় কী বলা হল?
বিতর্ক ও জনভ্রান্তি কাটাতে নির্বাচন কমিশন এবার নির্দেশিকায় তিনটি বড় বিষয় পরিষ্কার করে দিয়েছে:
১. পূর্বের নাম বাদ যাওয়া অপরাধ নয়: সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাম অতীতে ভোটার তালিকায় ছিল কি না, তা নতুন করে আবেদন জানানোর ক্ষেত্রে কোনও বাধা সৃষ্টি করবে না। পূর্বে নাম কাটা যাওয়ার তথ্য ফর্ম ৬-এ উল্লেখ না থাকলেও তাকে আইনি ভাষায় ‘মিথ্যা ঘোষণা’ বলে গণ্য করা হবে না।
২. প্রথমবার ভোটার হিসেবে দাবিতে ছাড়: বাদ পড়া ভোটাররা যদি সরল বিশ্বাসে নতুন ভোটার হিসেবে ফর্ম ৬-এ নাম তোলার জন্য আবেদন করেন, তবে তাতে কোনও ফৌজদারি বা আইনি অন্যায় দেখা হবে না।
৩. জনপ্রতিনিধিত্ব আইনে কোনও শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নয়: এই বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতিতে আবেদনকারীদের বিরুদ্ধে ১৯৫০ সালের জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ৩১ ধারার অধীনে কোনও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না।
কী ভাবে আবেদন করবেন বাদ পড়া ভোটাররা?
অফলাইন আবেদন (Offline Application): নিকটবর্তী বিডিও (BDO) অফিস বা বুথ লেভেল অফিসারের (BLO) কাছে সরাসরি নির্দিষ্ট নথিসহ ফর্ম ৬ পূরণ করে জমা দেওয়া যাবে।
অনলাইন পোর্টাল (Online Portal): কমিশনের জাতীয় ভোটার সেবা পোর্টাল বা ভোটার হেল্পলাইন অ্যাপ (Voter Helpline App)-এর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় নথি (যেমন বয়সের প্রমাণ ও ঠিকানার প্রমাণপত্র) আপলোড করে আবেদন করা যাবে।
কমিশনের এই ইতিবাচক পদক্ষেপের ফলে যে সমস্ত প্রকৃত ভারতীয় নাগরিক খসড়া তালিকার স্ক্রুটিনিতে বাদ পড়েছিলেন, তাঁরা কোনওরকম প্রশাসনিক বা আইনি হয়রানি ছাড়াই চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার পুনরুদ্ধার করার সুযোগ পাবেন।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)