পার্থ চৌধুরী: ফের বিতর্ক বর্ধমান মেডিকেল কলেজে। বর্ধমান মেডিকেল কলেজে বার্ষিক অনুষ্ঠানের জন্য প্রথম বর্ষের পড়ুয়াদের কাছ থেকে জোর করে মোটা টাকা আদায় করা হচ্ছে, এমনই অভিযোগ তুলে তার প্রতিবাদে সরব হল এবিভিপি। এ ব্যাপারে কলেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই ঘটনায় যুক্তদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এবিভিপি-র বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ইউনিটের পক্ষ থেকে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে,কলেজের বার্ষিক উৎসব স্পন্দন ২০২৬ -এর জন্য প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে জোরপূর্বক অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। বর্ধমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের প্রথম বর্ষের এমবিবিএস শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে 'স্পন্দন ২০২৬'-এর জন্য ৫,৫০০ টাকা করে দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।
এবিভিপি জানাচ্ছে,'আমরা এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি। এই ঘটনা শিক্ষার্থীদের কল্যাণ, আর্থিক বাধ্যবাধকতা এবং আমাদের প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহিতার বিষয়ে গুরুতর প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। আমরা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের উদ্দেশ্যে যেকোনো ধরনের জোরপূর্বক চাঁদা আদায়, ভয় দেখানো বা সিনিয়র হওয়ার সুযোগ নিয়ে চাপ প্রয়োগের তীব্র বিরোধিতা করছি।
তাদের বক্তব্য, কলেজের উৎসবের উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থীদের একত্রিত করা। তাদের ওপর আর্থিক বোঝা চাপানো বা টাকা দিতে অস্বীকার করলে কী পরিণতি হতে পারে—তা নিয়ে আতঙ্কিত করে তোলা নয়। যেকোনো অনুদান অবশ্যই স্বেচ্ছাপ্রণোদিত হতে হবে এবং কোনো শিক্ষার্থী যদি তা দিতে অস্বীকার করেন,তবে সেই সিদ্ধান্তকে অবশ্যই সম্মান জানাতে হবে। কলেজ প্রশাসন যেন বিষয়টিকে কোনো সাধারণ বিবাদ বা অনানুষ্ঠানিক আশ্বাসের মাধ্যমে মিটিয়ে ফেলার মতো তুচ্ছ ঘটনা হিসেবে না দেখে। আমরা অধ্যক্ষ এবং 'স্পন্দন ২০২৬'-এর ফ্যাকাল্টি সুপারভিশন কমিটির কাছে অবিলম্বে কার্যকর ও সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছি।
এবিবিভিপি-মেডিভিশন,বিএমসিএইচ ইউনিট দাবি, এই অর্থ আদায়ের অভিযোগের বিষয়ে একটি নিরপেক্ষ ও সময়াবদ্ধ তদন্ত করতে হবে। কী পরিস্থিতিতে এই অর্থ দাবি করা হয়েছিল এবং কোনো ভয় দেখানো বা প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল কি না তদন্তে তা খতিয়ে দেখতে হবে। একটি লিখিত নির্দেশিকা জারি করতে হবে। সেই সঙ্গে তাদের দাবি, উৎসবের বাজেট, অনুমোদিত অর্থের উৎস, সংগৃহীত অর্থ এবং ব্যয়ের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থী ও সাক্ষীদের সুরক্ষা প্রদান করতে হবে এবং অভিযোগ জানানোর জন্য একটি গোপনীয় ব্যবস্থা চালু করতে হবে।
তারা জানিয়েছেন, বর্ধমান মেডিকেল কলেজের সুনাম রক্ষা করতে হবে ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে—নীরব থেকে বা অস্বস্তিকর প্রশ্নগুলোকে চেপে রেখে নয়। ‘স্পন্দন’ শিক্ষার্থীদেরই। আর সেই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের মর্যাদা, ন্যায়বিচার এবং জোরজবরদস্তি থেকে মুক্ত থাকার অধিকারও তাদেরই প্রাপ্য।
এ ব্যাপারে বর্ধমান মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ সব্যসাচী দাস বলেন, 'স্পন্দন ২০২৬ পরিচালনা করে ফ্যাকাল্টি সুপারভিশন কমিটি। তা শিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়। ওই কমিটি এখনও অনুদান সংগ্রহ করতে বলেনি। তার আগেই অর্থ আদায় শুরু হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। যারা এ কাজে যুক্ত তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিজেপি জেলা মুখপাত্র ডা শান্তরূপ দে জানান, বিজেপি এই হুলিগানিসম মানে না। তারা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদের পাশে থাকবে। তিনি আরো বলেন, এই সংস্কৃতি তৃণমূল কংগ্রেস ও বামেদের। দীর্ঘদিন এই কালচার চলে আসছে। প্রশাসন এ ব্যাপারে দৃঢ় অবস্থান নেবে।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X, Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)