চোরবাগান পদপিষ্টকাণ্ডে বিরাট আপডেট: কাউকেই রেহাই নয়, ৯ জনেরই জামিন নাকচ-- নবান্ন-রাইটার্সে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত
Chorbagan Stampede: চোরবাগান পুজোমণ্ডপে পদপিষ্টের ঘটনায় ব্যাঙ্কশাল আদালতে খারিজ ৯ জনের জামিন। ভিড় নিয়ন্ত্রণের গাফিলতি খতিয়ে দেখতে দুই আইপিএস-সহ ১৬ জনকে তলব অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির কমিটির।
অয়ন ঘোষাল: কলকাতার অন্যতম নামী চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজো মণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে (Stampede) মৃত্যুর মর্মান্তিক ঘটনায় আইনি ও প্রশাসনিক সাঁড়াশি চাপ ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। একদিকে ধৃত ৯ জন অভিযুক্তের জামিনের আবেদন খারিজ করে দিয়েছে ব্যাঙ্কশাল আদালত (Bankshall Court), অন্যদিকে বিপর্যয়ের কারণ খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের বিশেষ তদন্তকারী কমিটি (Special Enquiry Committee) রাইটার্স বিল্ডিংয়ে ডেকে পাঠিয়েছে কলকাতা পুলিসের দুই ডেপুটি কমিশনার (DCP)-সহ মোট ১৬ জনকে।
আদালতে বড় ধাক্কা, কেন খারিজ জামিন?
ব্যাঙ্কশাল আদালতে শুনানিপর্বে অভিযুক্তদের আইনজীবীরা দাবি করেন, দুর্ঘটনার দায় কেবল পুজো কমিটির সদস্য বা নিরাপত্তারক্ষীদের নয়, মণ্ডপশিল্পী ও কর্তব্যরত পুলিসের ভূমিকার ওপরও বর্তায়। তবে সরকার পক্ষের আইনজীবী আদালতে স্পষ্ট করেন:
নিরাপত্তার চুক্তি ও গাফিলতি: পুজো কমিটির সঙ্গে একটি বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থার (Private Security Agency) পাঁচ লক্ষ টাকার চুক্তি হয়েছিল। কিন্তু মণ্ডপে বিপুল জনসমাগম সামলানোর মতো কোনও কার্যকর ভিড় নিয়ন্ত্রণ পরিকল্পনা (Crowd Management Plan) ছিল না।
আতঙ্ক ছড়ানোর ঘোষণা: মণ্ডপের মাইক থেকে এমন বার্তা প্রচার করা হয়েছিল যা সাধারণ দর্শনার্থীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক (Panic) তৈরি করে, যার জেরে হুড়োহুড়ি শুরু হয়।
আদালত সমস্ত নথি ও যুক্তি পর্যালোচনার পর ৮ জনকে ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত এবং অন্য এক অভিযুক্তকে ৬ নভেম্বর পর্যন্ত জেল হেফাজতে (Judicial Custody) রাখার নির্দেশ দেয়।
তদন্তে কি উঠে এসেছে?
বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে পুজো কমিটির পাঁচ লক্ষ টাকার চুক্তি হয়েছিল। সেই চুক্তি সংক্রান্ত নথিও তদন্তকারীদের হাতে রয়েছে বলে আদালতে জানিয়েছিল সরকারি পক্ষ। পাশাপাশি, মণ্ডপে ঘোষণার ধরন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ, এমন ঘোষণা করা হয়েছিল, যাতে দর্শনার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
আতঙ্কিত হয়ে বহু মানুষ একসঙ্গে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।
অন্য দিকে, অভিযুক্তদের আইনজীবীরা ঘটনার দায় নির্ধারণে পুজোর সঙ্গে যুক্ত শিল্পী এবং পুলিসের ভূমিকাও খতিয়ে দেখার দাবি তুলেছেন। তাঁদের বক্তব্য, বিপর্যয়ের জন্য শুধু ধৃতদের দায়ী করা যায় না। ঘটনার সময় সংশ্লিষ্ট প্রত্যেকের ভূমিকা তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন।
রাইটার্সে ১৬ জনকে তলব, তদন্তের আতসকাচে কি প্রশাসন?
ঘটনার নেপথ্যের প্রকৃত কারণ জানতে গঠিত হয়েছে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অনিন্দিতা রায় সরস্বতীর নেতৃত্বাধীন উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি। এই কমিটিতে রয়েছে বিপর্যয় মোকাবিলা দফতর (Disaster Management Department), এসটিএফ (STF) এবং এনডিআরএফ (NDRF)-এর উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিরা।
কমিটি সরাসরি রাইটার্স বিল্ডিংয়ে তলব করেছে ডিসি সেন্ট্রাল (DC Central) প্রবীণ প্রকাশ ও ডিসি ইস্ট (DC East) অরিন্দম সরকার-সহ একাধিক পুলিস আধিকারিককে। পুজোমণ্ডপে ঢোকা ও বেরোনোর পথ (Entry and Exit Routes) যথাযথ ছিল কি না, পুলিসের মোতায়েন পর্যাপ্ত ছিল কি না এবং জরুরি প্রস্থান পথ (Emergency Evacuation Plan) কার্যকর ছিল কি না-- তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
চোরবাগানের মর্মান্তিক ঘটনায় ঠিক কোথায় নিরাপত্তার ফাঁক ছিল, ভিড় নিয়ন্ত্রণে কার কী দায়িত্ব ছিল এবং বিপর্যয়ের মৃত্যু সবটাই এখন তদন্ত কমিটির আতস কাঁচে।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)