বিশ্বজিত্ মিত্র: নদীয়ার শান্তিপুর। শাক্ত ও বৈষ্ণব ধর্মের মেলবন্ধনের এই পুণ্যভূমিতেই প্রায় ৪০০ বছরের প্রাচীন ঐতিহ্য ও নিষ্ঠার সঙ্গে পূজিত হয়ে আসছেন মা আগমেশ্বরী। কথিত আছে,পণ্ডিত
কৃষ্ণানন্দ আগমবাগীশের প্রপৌত্র সার্বভৌম আগমবাগীশ এই পুজোর সূচনা করেন। তন্ত্রসাধনায় সিদ্ধিলাভের পর মায়ের নির্দেশে গঙ্গার মাটি দিয়ে প্রতিমা নির্মাণ করে পুজো এবং বিসর্জনের প্রথা চালু করেন তিনি। আজও সেই প্রাচীন রীতি মেনেই হয় মায়ের আরাধনা। বর্তমানে সেই সাধনাস্থল পরিচিত আগমেশ্বরীতলা নামে।
বড় গোস্বামী পরিবারের তত্ত্বাবধানে দুর্গাপুজোর বিজয়াদশমী থেকেই শুরু হয় পুজোর প্রস্তুতি। কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর দিন পালিত হয় ঐতিহ্যবাহী পাটখিলান অনুষ্ঠান। প্রায় ১৬ থেকে ১৮ ফুট উচ্চতার বিশাল প্রতিমা তৈরি করে কালীপুজোর রাতে তন্ত্রমতে সম্পন্ন হয় মায়ের আরাধনা। বংশপরম্পরায় বর্তমানে পুজোর দায়িত্বে রয়েছেন শ্রী রঘুনাথ ভট্টাচার্য।
মা আগমেশ্বরীর ভোগেও রয়েছে বিশেষ বৈশিষ্ট্য। সম্পূর্ণ নিরামিষ ৩৬ রকমের ব্যঞ্জন নিবেদন করা হয় দেবীকে। নেই পশুবলি, প্রথা মেনে বলি দেওয়া হয় আখ ও চালকুমড়ো। শুধু পুজোই নয়, কালীপুজোর পরের দিন হাজার হাজার ভক্তের জন্য আয়োজন করা হয় মহাভোগের। বিপুল পরিমাণ গোবিন্দভোগ চাল,ঘি, কাজু, কিশমিশ দিয়ে তৈরি হয় পোলাও। সঙ্গে থাকে আলুরদম ও পায়েস।
পুজোকে ঘিরে বড় গোস্বামী পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি ভক্তদের মধ্যেও থাকে ব্যাপক উৎসাহ। পুজোর পরের দিন ঐতিহ্য মেনে শোভাযাত্রা সহকারে প্রতিমা নিয়ে যাওয়া হয় শান্তিপুরের মতিগঞ্জ ঘাটে, সেখানেই সম্পন্ন হয় বিসর্জন।
ইতিহাস, তন্ত্রসাধনা, শাক্ত-বৈষ্ণব ঐতিহ্য এবং ভক্তির অপূর্ব মেলবন্ধনে শান্তিপুরের মা আগমেশ্বরীর পুজো আজও বাংলার অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী কালীপুজো হিসেবে স্বমহিমায় উজ্জ্বল।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X, Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)