যুবশক্তি ভরসা প্রকল্প নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বড় ঘোষণা: কবে থেকে পাবেন কড়কড়ে ৩০০০ টাকা? কী ভাবে ও কোথায় করবেন আবেদন?
Yuvashakti Bhrosa Scheme: শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য আসছে যুবশক্তি ভরসা প্রকল্প। স্নাতক হলে মাসে ৩০০০ এবং নন-গ্র্যাজুয়েট হলে ২০০০ টাকা ভাতা। জেনে নিন যোগ্যতা, নথিপত্র ও আবেদনের নিয়ম।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: রাজ্যের শিক্ষিত অথচ কর্মহীন তরুণ-তরুণীদের আর্থিক স্বস্তি দিতে --'যুবশক্তি ভরসা প্রকল্প' (Yuva Shakti Bhorosha Prakalpa) চালু হচ্ছে। হুগলি থেকে তিনি জানান, ২৩ নভেম্বর মন্ত্রিসভার বৈঠক রয়েছে। সেখানেই ভরসা প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হবে। সমাজে বয়স্ক ও মহিলাদের সুরক্ষায় নানাবিধ সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প (Social Security Schemes) থাকলেও, চাকরিপ্রার্থী তরুণ প্রজন্মের জন্য এমন সরাসরি ভাতার ব্যবস্থা কর্মসংস্থান খোঁজার দিনগুলোতে নিশ্চিতভাবেই বড় ভরসা জোগাবে।
ভাতার অঙ্ক
এই উদ্যোগের সবচেয়ে ইতিবাচক দিক হলো শিক্ষাগত যোগ্যতা অনুযায়ী ভাতার সুষম বিভাজন:
স্নাতকদের জন্য (For Graduates): ডিগ্রিধারী বেকার তরুণ-তরুণীদের প্রতি মাসে দেওয়া হবে ৩,০০০ টাকা।
স্নাতক নন এমন বেকারদের জন্য (For Non-Graduates): উচ্চমাধ্যমিক বা সমমানের যোগ্যতা সম্পন্ন কর্মহীনদের জন্য বরাদ্দ মাসে ২,০০০ টাকা।
যতক্ষণ না পর্যন্ত যোগ্য প্রার্থীরা স্থায়ী কর্মসংস্থান খুঁজে পাচ্ছেন, ততক্ষণ এই মাসিক আর্থিক সাহায্য (Monthly Financial Assistance) তাঁদের পড়াশোনা ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সহায়ক হবে।
কারা যোগ্য? জেনে নিন মূল শর্তাবলী
প্রকল্পে আবেদনের জন্য কিছু সুনির্দিষ্ট মাপকাঠি রাখা হয়েছে:
বয়সসীমা (Age Limit): আবেদনকারীর বয়স হতে হবে ২১ থেকে ৪৫ বছরের মধ্যে।
পারিবারিক আয় (Family Income): পরিবারের মাসিক আয় ১ লক্ষ টাকার বেশি হওয়া চলবে না।
কাজের স্থিতি (Employment Status): আবেদনকারীকে সম্পূর্ণভাবে কর্মহীন হতে হবে এবং অন্য কোনও সরকারি ভাতার আওতাভুক্ত থাকা চলবে না।
কী কী নথিপত্র তৈরি রাখতে হবে? (Required Documents)
আবেদনের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগেই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র গুছিয়ে রাখা জরুরি:
১. পরিচয়ের প্রমাণ: ভোটার কার্ড (Voter ID Card), জাতীয় পরিচয়পত্র বা সংশ্লিষ্ট প্রমাণ।
২. ঠিকানা ও বাসস্থানের প্রমাণ: ডিজিটাল রেশন কার্ড এবং সাম্প্রতিক আবাসিক শংসাপত্র (Residential Certificate)।
৩. বয়সের প্রমাণ: মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড বা বার্থ সার্টিফিকেট (Birth Certificate)।
৪. শিক্ষাগত যোগ্যতা: শেষ পরীক্ষার মার্কশিট এবং স্নাতকদের ক্ষেত্রে ডিগ্রি বা প্রভিশনাল সার্টিফিকেট (Provisional Certificate)।
৫. আয়ের প্রমাণ: সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের থেকে নেওয়া ইনকাম সার্টিফিকেট (Income Certificate)।
৬. ব্যাংক বিবরণী: আবেদনকারীর নিজের নামে থাকা আধার ও ডিবিটি-সংযুক্ত (DBT-linked) সচল ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের পাসবইয়ের প্রথম পাতার জেরক্স।
৭. অন্যান্য: পাসপোর্ট সাইজ রঙিন ছবি এবং আধার-সংযুক্ত চালু মোবাইল নম্বর। সংরক্ষিত শ্রেণির ক্ষেত্রে জাতিগত শংসাপত্র (Caste Certificate)।
কী ভাবে ও কবে থেকে আবেদন?
জানা গিয়েছে, আগামী ২৩ নভেম্বর মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পরই প্রকল্পের নির্দিষ্ট রূপরেখা, নির্দেশিকা এবং আবেদন শুরুর সঠিক দিনক্ষণ জনসমক্ষে আনা হবে। প্রক্রিয়াটি যাতে সকলের কাছে সহজ হয়, তার জন্য দুটি পথই খোলা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে:
অনলাইন (Online Portal): নির্দিষ্ট অফিসিয়াল পোর্টালে গিয়ে ব্যক্তিগত তথ্য ও প্রয়োজনীয় নথি আপলোড করার ব্যবস্থা থাকবে।
অফলাইন (Offline Submission): স্থানীয় বিডিও (BDO Office), এসডিও (SDO Office), পুরসভা বা পুরনিগমের মাধ্যমে ফর্ম জমা দেওয়ার সুবিধা মিলবে।
নতুন বছরের শুরুতেই অর্থাৎ জানুয়ারি মাস থেকে এই প্রকল্পের সুবিধা সরাসরি উপভোক্তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠানো শুরু করার লক্ষ্য রাখা হয়েছে।