Kali Puja 2026: ৭৫ বছর ধরে কৃষ্ণ ও কালীর অভিন্ন রূপের আরাধনায় এমনই ব্যতিক্রমী পুজো হচ্ছে হুগলির হরিপাল অধিকারী পরিবারে।
বিধান সরকার: সবুজ কালী। গলায় কণ্ঠিমালা, কপালে বৈষ্ণব তিলক! পশুবলি নয়, প্রতিদিন শোনানো হয় বাঁশির সুর। দীপাবলির রাতে ভোগ হিসেবে নিবেদন করা হয় ইলিশ মাছ ভাজা। ৭৫ বছর ধরে কৃষ্ণ ও কালীর অভিন্ন রূপের আরাধনায় এমনই ব্যতিক্রমী পুজো হচ্ছে হুগলির হরিপাল অধিকারী পরিবারে।
1/8
পুজোর সূচনা
জানা যায়, বাংলা ১৩৫৭ বঙ্গাব্দে বটকৃষ্ণ অধিকারীর হাত ধরে এই পুজোর সূচনা। বৈষ্ণব পরিবারের সন্তান ছিলেন বটকৃষ্ণ। ছোট থেকেই সংসারের প্রতি বিশেষ আকর্ষণ ছিল না তাঁর। মাধ্যমিক পাশ করার পর চাকরিতে যোগ দিলেও দূরে বদলি হওয়ায় পরিবারের অনুরোধে চাকরি ছেড়ে দেন।
2/8
সর্বক্ষণের সঙ্গী ছিল বাঁশি
চাকরি ছেড়ে চাষাবাদ ও গরু চরাতেন বটকৃষ্ণ। আর সর্বক্ষণের সঙ্গী ছিল বাঁশি। ধীরে ধীরে তাঁর মধ্যে আধ্যাত্মিক চেতনার উন্মেষ ঘটে। এরপর কোনও এক অজানা সাধকের কাছে দীক্ষা নিয়ে শুরু করেন তন্ত্রসাধনা।
3/8
সাধক বটকৃষ্ণ
রাতের অন্ধকারে বাড়ি থেকে বেরিয়ে ভোরে বাড়ি ফিরতেন গায়ে ছাই মেখে! শেষপর্যন্ত ছেলের বিয়ে দিয়ে দেন বটকৃষ্ণের পরিবারের লোকেরা। কিন্তু তারপরেও সাধনা থেকে সরে আসেনি বটকৃষ্ণ।
4/8
স্বপ্নাদেশে কালীপুজো
প্রথমে বাড়ির অন্দরেই গোপনে ঘটে মা কালীর আরাধনা শুরু হয় সাধনা। একদিন বাড়িতে কালী প্রতিমা প্রতিষ্ঠা করে পুজো স্বপ্নাদেশ পান। কিন্তু বৈষ্ণব পরিবারের সদস্যরা মূর্তিপুজোয় আপত্তি জানান। পরিবারের দাবি, কয়েকজন বৈষ্ণব মোড়লও তাঁদের একঘরে করার চেষ্টা করেন।
5/8
অলৌকিক ঘটনা!
এরপরই ঘটে যায় এক অলৌকিক ঘটনা! শ্মশানে সাধনা করার সময় চারপাশ দৈব আলোয় আলোকিত হয়ে ওঠে চারপাশ। বাতাস ভরে যায় সুগন্ধে। টকৃষ্ণ দেখতে পান, যেখানে তিনি প্রতিদিন গরু চরাতেন, সেখানে একই সঙ্গে উপস্থিত শ্রীকৃষ্ণ ও মা কালী। তাঁরা তাঁকে জানান, কৃষ্ণ ও কালী আলাদা নন, তাঁরা এক এবং অভিন্ন।
6/8
সবুজ কালী
বটকৃষ্ণ প্রত্যক্ষ করেন কৃষ্ণ ও কালীর সম্মিলিত এক অপূর্ব নারী মূর্তি। দেখতে কালীমূর্তির মতো হলেও দেবীর গায়ের রং কচি দুর্বা ঘাসের মতো সবুজ। 'নবদূর্বাদলশ্যামা' রূপেই দেবীকে প্রতিষ্ঠা করার নির্দেশ পান তিনি।
7/8
বৈষ্ণব ভাবধারায় দেবীর আরাধনা
সেই নির্দেশ মেনেই মাঘ মাসে রটন্তী চতুর্দশীর তিথিতে প্রতিষ্ঠিত হয় সবুজ কালীর মূর্তি। এই পুজোর অন্যতম বিশেষত্ব হল, এখানে কোনও পশুবলি হয় না। দেবীর আরাধনা করা হয় বৈষ্ণব ভাবধারায়।
8/8
দীপাবলীর রাতে বাঁশির সুর
কৃষ্ণ ও কালীর অভিন্ন রূপ হওয়ায় দেবীকে বাঁশির সুর শোনানোর বিশেষ রীতি রয়েছে। কালীপুজোর রাতে এক প্রহর অর্থাৎ প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে বাঁশি বাজিয়ে দেবীকে শোনানো হয়। সেই বাঁশি বাজান পরিবারের বর্তমান সদস্য দেবজ্যোতি অধিকারী।