জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ভারতের অন্যতম প্রধান সাইবার শহর গুরুগ্রামের (Gurugram) বিলাসবহুল আবাসনের বন্ধ ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার তথ্যপ্রযুক্তি কর্মী দম্পতির (Techie Couple) ঝুলন্ত নিথর দেহ। ঘটনাটি ঘটেছে সেক্টর ৬৮-এর অভিজাত ‘এম৩এম মেরিনা’ আবাসন চত্বরে (M3M Marina Society)। বহুতল আবাসনের ফ্ল্যাটের ভেতর থেকে উদ্ধার হওয়া ওই যুগল শহরের শীর্ষস্থানীয় তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থায় মোটা অঙ্কের বেতনে কর্মরত ছিলেন।
প্রাথমিকভাবে পুলিস এটিকে আত্মহত্যার ঘটনা (Suspected Suicide) বলেই অনুমান করছে। ফ্ল্যাট থেকে একটি সুইসাইড নোটও (Suicide Note) বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিস। তবে বাইরে থেকে অত্যন্ত সফল ও চকচকে জীবনের পেছনে ঠিক কোন মানসিক যন্ত্রণা বা পারিবারিক চাপ এই চরম সিদ্ধান্তের দিকে ঠেলে দিল, তা নিয়ে গভীর তদন্ত শুরু হয়েছে।
বন্ধ ফ্ল্যাট থেকে কী ভাবে উদ্ধার হল দেহ?
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, বেশ কিছুদিন ধরে ওই দম্পতির সঙ্গে পরিবারের সদস্যরা ফোনে যোগাযোগ করতে পারছিলেন না। বারংবার ফোন ও মেসেজ পাঠানো হলেও কোনও উত্তর পাওয়া যায়নি। এরপরই পরিবারের পক্ষ থেকে আবাসনের নিরাপত্তা রক্ষী ও বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়।
শুক্রবার সন্ধ্যায় আবাসনের কর্মীরা ওই ফ্ল্যাটের দরজায় ধাক্কা দিয়ে কোনও সাড়া পাননি। ভেতর থেকে কোনও শব্দ না মেলায় এবং সন্দেহজনক পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় সঙ্গে সঙ্গে সেক্টর ৬৫ থানার পুলিসে (Sector 65 Police Station) খবর দেওয়া হয়। পুলিস এসে স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের উপস্থিতিতে ফ্ল্যাটের মাস্টার কি বা লক ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। ফ্ল্যাটের শোওয়ার ঘরে পৌঁছে পুলিস দেখে, সিলিং ফ্যান থেকে দুটি আলাদা দড়িতে ঝুলছে দুজনের নিথর দেহ। দ্রুত দেহ দুটি নামিয়ে স্থানীয় সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁদের মৃত বলে ঘোষণা করেন।
সুইসাইড নোটে কী লেখা?
ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে পুলিস একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করেছে। সূত্রের খবর, চিঠিতে এই চরম পদক্ষেপের জন্য কাউকে সরাসরি দায়ী করা হয়নি। সেখানে ব্যক্তিগত জটিলতা ও মানসিক অবসাদের (Depression and Mental Stress) ইঙ্গিত রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
পুলিসের প্রাথমিক বক্তব্য
তদন্তকারী এক পুলিস আধিকারিকের কথায়, 'আমরা ঘটনাস্থল থেকে সমস্ত তথ্য সংগ্রহ করেছি। দেহ দুটিকে ময়নাতদন্তের (Post-Mortem) জন্য পাঠানো হয়েছে। ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের (Forensic Team) দল ফ্ল্যাটের ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও অন্যান্য প্রমাণ খতিয়ে দেখছে। ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট এবং মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপের ডিজিটাল ফরেনসিক রিপোর্ট আসার পরেই মৃত্যুর সঠিক সময় ও কারণ স্পষ্ট হবে।'
বিলাসবহুল জীবনের আড়ালে নিঃশব্দ মানসিক চাপ
দুই স্বামী-স্ত্রী কর্মীই টেক ইন্ডাস্ট্রিতে উচ্চপদে আসীন ছিলেন। অর্থনৈতিকভাবে কোনও প্রকাশ্য টানাটানি ছিল না বলেই প্রাথমিক তদন্তে ইঙ্গিত মিলেছে। তবে কর্পোরেট সেক্টরের দীর্ঘ কাজের সময়সীমা (Workplace Stress), ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানাপোড়েন বা পরিবারকেন্দ্রিক কোনও গোপন সমস্যা ছিল কি না, তা জানতে উভয় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলছে পুলিস।
উজ্জ্বল কেরিয়ার ও সম্ভাবনাময় দুই তরুণ পেশাদারের এমন মর্মান্তিক পরিণতির ঘটনায় শুধু ওই আবাসন চত্বরেই নয়, গোটা শহরের তথ্যপ্রযুক্তি মহলে নেমে এসেছে গভীর শোক ও বিস্ময়ের ছায়া।
আরও পড়ুন:
আরও পড়ুন: