গুটখার পিক ফেলতেই মৃত্যু ৬৫ বছরে রাজমিস্ত্রির! ১১০০০ ভোল্টের হাই-টেনশন বিদ্যুৎ লাইনে সঙ্গে সঙ্গে অগ্নিদগ্ধ
গুটখার পিক ফেলতেই মর্মান্তিক মৃত্যু হল ৬৫ বছরে রাজমিস্ত্রির! ১১০০০ ভোল্টের হাই-টেনশন বিদ্যুৎ লাইনের সংযোগেই সঙ্গে সঙ্গে অগ্নিদগ্ধ হলেন তিনি
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: গুটখা,পান মশলা ও তামাকজাত পণ্য সেবন শুধুই মারণ ক্যানসার ডেকে আনে না, তা মৃত্যুরও কারণ হতে পারে। এই কথা দেশের বাচ্চারাও জানে। কিন্তু মানুষের মধ্যে এই নিয়ে সচেতনতা প্রায় নেই বললেই চলে। আর এই গুটখাই এবার কারল এক বৃদ্ধের প্রাণ। মর্মান্তিক মৃত্যু হল ৬৫ বছরের প্রভুলাল গুপ্তার! মধ্যপ্রদেশের বিদিশা জেলা থেকে এল হাড়হিম খবর। গত শুক্রবারের মর্মান্তিক ঘটনার খবর দিন দুয়েক পড়েই গোটা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। প্রভুলাল গায়ত্রী নগরে তাঁর ভাড়া বাড়ির চারতলার বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিলেন। সময়টা ছিল দুপুর ১টার কাছাকাছি। প্রভুলাল বারান্দা থেকে নীচে গুটখার পিক ফেলেছিলেন। আর তাঁর সেই পিক সরাসরি এসে পড়ে গঞ্জবাসোদার ১১ কেভি (১১০০০ ভোল্ট) হাই-টেনশন বিদ্যুৎ লাইনে! প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে গুটখা চিবানোর পর তাঁর মুখ থেকে বেরিয়ে আসা থুতুর ধারা ওই বৈদ্যুতিক তারের সংস্পর্শে আসতেই তিনি মারাত্মক ভাবে অগ্নিদগ্ধ হয়ে যান। সঙ্গে সঙ্গে প্রভুলাল মারা যান! ছতরপুরের বাসিন্দা প্রভুলাল পেশায় রাজমিস্ত্রি ছিলেন। গত ১০ বছর ধরে ওই ভাড়াবাড়িতেই থাকতেন তিনি।
কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা
বিদ্যুৎ বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, নির্দিষ্ট কিছু পরিস্থিতিতে এমন ঘটনা ঘটতে পারে। লালায় আর্দ্রতা ও দ্রবীভূত লবণ থাকে, যা একে বিদ্যুৎ পরিবাহী করে তুলতে পারে। যদি তরলের একটি অবিচ্ছিন্ন ধারা কোনও সচল বিদ্যুৎ পরিবাহীর (লাইভ কন্ডাক্টর) সংস্পর্শে আসে, তবে তা বিদ্যুতের জন্য এক পরিবাহী পথ তৈরি করতে পারে। বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, উপযুক্ত পরিস্থিতিতে ১১ কেভি (kV) বিদ্যুৎ লাইন থেকে বৈদ্যুতিক আর্ক (স্ফুলিঙ্গ বা বিদ্যুৎপ্রবাহের স্ফুলিঙ্গ) সৃষ্টি হতে পারে। বারান্দাটি যদি বিদ্যুৎ পরিবাহীর যথেষ্ট কাছাকাছি থাকে, তবে বিদ্যুৎ বাতাসের মধ্য দিয়ে লাফিয়ে আসতে পারে। যদি শরীরের মধ্য দিয়ে বিদ্যুতের কোনও পথ তৈরি হয়ে যায়, তবে তার ফলে সৃষ্ট বৈদ্যুতিক শক মারাত্মক দহন বা মৃত্যুর কারণ হতে পারে।
ফুঁসছে স্থানীয় বাসিন্দারা
এই ঘটনা বাসিন্দাদের মধ্যে তুমুল ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। তাঁদের অভিযোগ, বসতবাড়ির অত্যন্ত কাছ দিয়ে চলে যাওয়া উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন বৈদ্যুতিক তার নিয়ে বারবার অভিযোগ জানানো সত্ত্বেও বিদ্যুৎ কোম্পানি তা উপেক্ষা করেছে। প্রভুলালের বাড়িওয়ালাদের একজন জানিয়েছেন যে, ওই এলাকায় বৈদ্যুতিক খুঁটি, তার এবং ট্রান্সফর্মারগুলির অবস্থা অত্যন্ত জরাজীর্ণ। বসতবাড়ির খুব কাছ দিয়ে চলে যাওয়া ১১ কেভি বিদ্যুৎ লাইনটি নিয়ে বাসিন্দারা বারবার অভিযোগ জানালেও, তাঁদের উদ্বেগের কোনও সুরাহাহয়নি। বাড়িওয়ালা পদ্মা চিধার জানিয়েছেন, তিনি নিজেও বিদ্যুৎ বিভাগের কর্তাদের কাছে কয়েকবার গিয়ে লাইনটি সরিয়ে ফেলার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। তাঁর অভিযোগ কর্মকর্তারা লাইনটি সরিয়ে ফেলার আশ্বাস দিলেও বাস্তবে কোনও পদক্ষেপই নেওয়া হয়নি।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X, Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)