জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: আগামী ২৭ অক্টোবর থেকে ভারতীয় রেলে বিরাট বদল। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে মেনে দেশের সব রেলওয়ে স্টেশনের রিজার্ভেশন কাউন্টার থেকে কেনা টিকিটগুলিকেও অনলাইন টিকিটের মতোই বিমা সুরক্ষার আওতায় আনতে হবে। এর ফলে যারা রেলওয়ে রিজার্ভেশন কাউন্টার থেকে টিকিট কেনেন, তারাও এখন অনলাইন টিকিট ক্রেতাদের মতোই বিমা সুবিধা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। রেল নিরাপত্তা সংক্রান্ত একটি মামলার শুনানির সময়ে বিচারপতি আহসানউদ্দিন আমানুল্লাহ এবং বিচারপতি আর মহাদেবনের বেঞ্চ এই নির্দেশ দিয়েছেন। বেঞ্চ উল্লেখ করেছে যে, বর্তমানে কেবল অনলাইনে টিকিট বুক করা যাত্রীরাই সামান্য অতিরিক্ত অর্থ প্রদানের বিনিময়ে বিমা সুরক্ষার সুবিধা পাওয়ার যোগ্য। দেশের সর্বোচ্চ আদালত জানিয়েছে যে, এই আদেশ মেনে চলা বাধ্যতামূলক।
আরও কিছু তথ্য যা জানা দরকার
আদেশ অমান্য করা হলে তার জন্য ভারতীয় রেল সরাসরি দায়ী থাকবে। যারা অনলাইনে টিকিট বুক না করে রেলওয়ের রিজার্ভেশন কাউন্টার থেকে টিকিট কেনেন, সেইসব যাত্রীদের বিমা সুরক্ষার আওতায় আনাই লক্ষ্য়।এর আগেও আদালত রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি বিবেচনা করতে বলেছিল। আদালত তার আদেশে উল্লেখ করেছে যে, সমাজের অর্থনৈতিক ভাবে সবচেয়ে দুর্বল অংশের মানুষদের এই সুবিধা দেওয়ার জন্য এক পদ্ধতি তৈরি করতে কর্তৃপক্ষকে যথেষ্ট সময় দেওয়া হয়েছিল। এই মানুষগুলি সাধারণত রেলওয়ের রিজার্ভেশন কাউন্টার থেকেই টিকিট কিনে থাকেন। অথচ এই বিষয়ে অগ্রসরই করেননি। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, দুই সপ্তাহের মধ্যে সমস্ত রেলওয়ে স্টেশনের রিজার্ভেশন কাউন্টার থেকে কেনা টিকিটের ক্ষেত্রেও বিমা সুবিধা কার্যকর করতে হবে।অনলাইনে কেনা টিকিটের মতোই একই শর্তে ২০২৬ সালের ২৭ অক্টোবর থেকে এই নিয়ম কার্যকর হবে।
কাউন্টারে কেনা টিকিটের ক্ষেত্রেও বিমা সুরক্ষা
বীমা সুরক্ষার পাশাপাশি রেলওয়ের সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়েও আদালত গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বেঞ্চ পর্যবেক্ষণ করেছে যে, নিরাপত্তা সংক্রান্ত নানা প্রতিশ্রুতি দেওয়া সত্ত্বেও বাস্তবে রেলের পর্যাপ্ত উন্নতি চোখে পড়ছে না। আদালত রেলের কাছে জানতে চেয়েছে কেন প্রতি বছর রেললাইন ঘিরে বেড়া দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ব্যর্থ হচ্ছে! প্রতি বছরই নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ অপূর্ণ থেকে যাচ্ছে। আদালত রেলওয়ে বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের আগামী ১৬ নভেম্বর পরবর্তী শুনানির দিন সশরীরে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। তবে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষে উপস্থিত অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল বিক্রমজিৎ বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের তরফে গত এক বছরে কী কী কাজ করা হয়েছে এবং কেন লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা সম্ভব হয়নি, তা বিস্তারিত হলফনামার মাধ্যমে জানানোর জন্য সময় চেয়ে আবেদন করেন। আবেদনের প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট কর্তাদের সশরীরে হাজির হওয়ার নির্দেশটি আদালত সাময়িক ভাবে স্থগিত রেখেছে।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)