নকশালদের মুছে ফেলা হলেও দিমাগি নকশালরা আমাদের মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে, খুঁজে বের করতে হবে: মোদী
Narendra Modi: প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত ৪৭ বছরে এই প্রথম গত এক বছরে নকশালদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সিআরপিএফের কোনও জওয়ানের মৃত্যু হয়নি
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: গত এক বছরে দেশজুড়ে নকশাল দমন অভিযান তীব্র করেছিল কেন্দ্র। তারই ফলস্রুতিতে আজ দেশের প্রতিটি জেলা এখন নকশালমুক্ত। কিন্তু দিমাগি নকশাল বা যাদের মগজে নকশাল তারা রয়ে গিয়েছে আমাদের সমাজে। ছত্তীসগড়ের বস্তারে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে দীপাবলি উদযাপনের সময় বক্তব্য রাখতে গিয়ে একথা বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
সেনার পোশাকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এবার দীপবলি একেবারেই অন্যরকম। গোটা দেশ নকশালবাদ ও মাওবাদ থেকে মুক্ত হয়েছে। এরকম অবস্থায় এটি প্রথম দীপাবলি। এটা সেই দীপাবলি যখন দেশের প্রতিটি জেলা নকশাবাদ থেকে মুক্ত হয়েছে। দেশের কোটি কোটি মানুষ এই দীপাবলিতে নকশালবাদের ভয় থেকে মুক্ত হয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে বলে, সাম্প্রতিক কালে দেশে যারা বিক্ষোভ করছে তাদের উদ্দেশ্য হল দেশে অরাজকতা ছড়িয়ে দেওয়া। জঙ্গলমহল থেকে নকশালরা উচ্ছেদ হয়েছে। তবে এখন যারা দিমাগি নকশাল তারাই এখন প্রকৃত বিপদ। কারণ তারা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে ঢুকে পড়েছে।
দিমাগি নকশাল নিয়ে বলতে গিতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নকশালরা শেষ হয়েছে কিন্তু আমাদের একটা কথা মাথায় রাখতে হবে। হাতিয়ারধারী নকশালরা উত্খাত হয়েছে কিন্তু যারা দিমাগি নকশাল তারা বিভিন্ন সংগঠনের দখল নিয়েছে। এখন তারা প্রতিদিন দেশের গণতন্ত্র ও সংবিধানের বিরুদ্ধে মানুষকে উসকাচ্ছে। ওইসব দিমাগি নকশালদের চিহ্নিত করতে হবে, তাদের মুছে দিয়ে সমাজে শান্তি আনতে হবে।
উল্লেখ্য, লাল কেল্লায় বক্তব্য রাখার সময় প্রধানমন্ত্রী প্রথম এই দিমাগি নকশালদের কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত ৪৭ বছরে এই প্রথম গত এক বছরে নকশালদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সিআরপিএফের কোনও জওয়ানের মৃত্যু হয়নি। এটি একটি অসাধারণ সাফল্য। এর কৃতিত্ব আপনাদের। সেই কারণেই আমি আজ আপনাদের সঙ্গে দেওয়ালি উদযাপন করতে এবং ১.৪০ কোটি ভারতীয়র পক্ষ থেকে আপনাদের ত্যাগ, নিষ্ঠা ও সেবার মনোভাবের জন্য কৃতজ্ঞতা জানাতে এসেছি।
ছত্তীসগড়ের বস্তার ও দান্তেওয়াড়া সবসময় মাওবাদীদের শক্ত ঘাঁটি। প্রধানমন্ত্রীর দাবি, ওইসব এলাকায় এখন বদলের হাওয়া। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০১০ সালে দান্তেওয়াড়ায় ৬৬ জন সিআরপিএফ জওয়ান শহিদ হন। ওই বছরই দান্তেওয়াড়াতে আরেকটি ঘটনায় ৪১ জন নিরীহ সাধারণ মানুষ প্রাণ হারান। তার পরেও যারা বিলাসবহুল প্রাসাদে থাকে তাদের চোখ জল আসেনি। ২০০৪ থেকে ২০১৩ সালের তথ্য দেখলে বোঝা যায়, প্রতি বছর মাওবাদীদের নিধনের সংখ্যার চেয়ে আমাদের যতজন বীর জওয়ান শহিদ হতেন, তার সংখ্যা বেশি ছিল। আজ, ডিউটিতে থাকা অবস্থায় একজন সিআরপিএফ জওয়ানকেও নিজের জীবন উৎসর্গ করতে হয়নি। এটি দেশের সঠিক নীতি, সম্মান এবং ইচ্ছাশক্তির বিজয়। আমি আবার বলছি, এটি আপনাদের সাহসিকতা, বীরত্ব এবং সংযমেরই প্রমাণ।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X, Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)