ইডির ফাইল কেড়ে ক্ষমতার অপব্যবহার? আইপ্যাক-কাণ্ডে CBI তদন্তের মুখোমুখি হতে চলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়?
I-Pac: আইপ্যাক-কাণ্ডে ইডির ফাইল ছিনতাইয়ের মামলায় কি সিবিআই তদন্তের অনুমতি দেবে সুপ্রিম কোর্ট? মমতার আইনজীবী কপিল সিবল ও ইডির সওয়াল-জবাবের পর শীর্ষ আদালত এদিন রায়দান স্থগিত রাখে। বিচারপতি মিশ্র বলেন, প্রয়োজন হলে আদালত তার পর্যবেক্ষণে বিষয়টি স্পষ্ট করে দেবে এবং রাজ্য সরকারকে তদন্তভার হস্তান্তরের অনুমতি দেবে।
রাজীব চক্রবর্তী ও অর্ণবাংশু নিয়োগী: আইপ্যাক-কাণ্ডে ইডি আধিকারিকদের কাছ থেকে ফাইল ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ঘিরে সুপ্রিম কোর্টে সওয়াল-জবাবের কেন্দ্রে উঠে এল সিবিআই তদন্তের প্রশ্ন। বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে আইনজীবী কপিল সিবাল যুক্তি দেন, যে পরিস্থিতিতে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি তুলে ইডি কলকাতা হাইকোর্ট হয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল, এখন তা বদলে গিয়েছে। রাজ্যে নতুন মুখ্যমন্ত্রী ও সরকার গঠিত হয়েছে। ফলে রাজ্য সরকারের হাতে সিবিআই তদন্তের দায়িত্ব দেওয়ার আইনি ক্ষমতা রয়েছে। সে ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগের প্রয়োজনীয়তা কোথায় ?
বিচারপতি পিকে মিশ্র মনে করিয়ে দেন, আগের শুনানিতে আইনজীবী মানেকা গুরুস্বামীও একই যুক্তি দিয়েছিলেন। তখন সলিসিটর জেনারেল জানিয়েছিলেন, সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হলে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। জবাবে সিবাল বলেন, তিনি আদালতে স্পষ্ট করে জানাচ্ছেন, সরকারের ক্ষমতা সরকারের হাতেই রয়েছে। তাই তদন্তভার হস্তান্তরের সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলার অবকাশ নেই।
এর পর ইডির পক্ষে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল এসভি রাজুর কাছে বিচারপতিরা জানতে চান, পরিস্থিতি বদলানোর পরেও পশ্চিমবঙ্গ সরকার কেন সিবিআইকে তদন্তভার দিচ্ছে না? এ ক্ষেত্রে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হতে বাধা কোথায়?
রাজুর পাল্টা যুক্তি, সিবাল আশ্বাস দিলেও তাঁর মক্কেল পরে তদন্তের পিছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে বলে অভিযোগ তুলতে পারেন। এমনকি সর্বোচ্চ আদালত মামলাটিকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেয়নি, সেই যুক্তিও দেখানো হতে পারে। তাঁর বক্তব্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশাপাশি পুলিশ আধিকারিকেরাও অভিযোগের আওতায় ছিলেন। ফলে তদন্ত প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। হাইকোর্টে গেলে ফের নতুন করে সওয়াল-জবাব শুরু হবে বলেও জানান তিনি। ইডির দাবি, নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করাই তাদের লক্ষ্য।
বিচারপতি মিশ্র বলেন, প্রয়োজন হলে আদালত তার পর্যবেক্ষণে বিষয়টি স্পষ্ট করে দেবে এবং রাজ্য সরকারকে তদন্তভার হস্তান্তরের অনুমতি দেবে। এর পর প্রিয়ব্রত রায়ের আইনজীবী সওয়াল করেন। তাঁর বক্তব্য, ৩৭ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এক আইপিএস আধিকারিক কেবল নিজের দায়িত্ব পালন করছিলেন। সব পক্ষের বক্তব্য শোনার পর রায়দান স্থগিত রাখে সুপ্রিম কোর্ট।
এদিন ইডির পক্ষে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল এস ভি রাজু বলেন, শুধু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন, এই মামলায় অভিযুক্ত বেশ কয়েকজন পুলিশ আধিকারিক। তারা এখনও কর্মরত রয়েছেন। তারা পুলিশি তদন্তে প্রভাব খাটাতে পারেন। তাই তদন্তভার সিবিআইকে দেওয়া হোক। যার বিরোধিতায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষে কপিল সিবল বলেন, IPAC এবং প্রতীক জৈনের ক্ষেত্রে একটি তল্লাশি অভিযান হয়েছিল। ED আধিকারিকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। রাজ্য সরকার চাইলে যে কোনও মামলা CBI-এর হাতে তুলে দিতে পারে।
কপিল সিবল প্রশ্ন তোলেন, ED-র বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করা যেতে পারে, এমনকি তাদের পদক্ষেপ খারিজও করা যেতে পারে। কিন্তু এই যে অসৎ উদ্দেশ্যের যুক্তি তোলা হচ্ছে, তার বিরুদ্ধে আপত্তি রয়েছে। প্রশ্ন তোলেন, আদালত কেন এই বিষয়ে জড়াবে? এসভি রাজু পালটা সওয়ালে বলেন, ইডি-র বিষয়টি একটি পাল্টা মামলা । তাই দুটি বিষয়েরই তদন্ত একই সংস্থার মাধ্যমে হওয়া প্রয়োজন। সব সওয়াল জবাব শেষে বিচারপতি মিশ্র মামলাটি CBI-এর হাতে তুলে দেওয়ার অনুমতি দেন।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X, Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)