হাইকোর্টে ধাক্কা বিরাট ধাক্কা ককরোচদের: রিট পিটিশন প্রত্যাহার, হাইকোর্টে কড়া প্রশ্নের মুখে-- কী হবে সিজেপি নেতাদের ভবিষ্যৎ?
CJP leaders set back in Delhi High Court: প্রযুক্তিগত ত্রুটি ও বিকল্প আইনি পথের প্রশ্নে দিল্লি হাইকোর্ট থেকে হেফাজত চ্যালেঞ্জের পিটিশন প্রত্যাহার করলেন সিজেপি নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: জামিন চেয়ে নিম্ন আদালত টপকে সরাসরি উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হতে গিয়ে বড় ধাক্কা খেলেন ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) শীর্ষ নেতারা। যন্তর মন্তরে তেরঙা ওড়ানোর মামলায় তিহাড় জেলে বন্দি সৌরভ দাস (Saurav Das) ও আশুতোষ রাঙ্কার (Ashutosh Ranka) হেফাজত চ্যালেঞ্জ করে দিল্লি হাইকোর্টে (Delhi High Court) যে রিট পিটিশন দাখিল করা হয়েছিল, বুধবার তা আচমকাই প্রত্যাহার করে নিলেন তাঁদের আইনজীবীরা। বিচারপতি সুব্রহ্মণ্যম প্রসাদের বেঞ্চ মামলার পদ্ধতিগত ত্রুটি ও বিকল্প আইনি পথের প্রশ্নে একের পর এক কড়া প্রশ্ন তুলতেই কার্যত পিছু হটতে বাধ্য হয় সিজেপির আইনি সেল। নিম্ন আদালতের বিচারপ্রক্রিয়া বিচারাধীন থাকা অবস্থায় সরাসরি হাইকোর্টের হস্তক্ষেপ চাওয়া নিয়েই এই আইনি বিপত্তি তৈরি হয়।
আদালতের বক্তব্য, সরাসরি হাইকোর্টে রিট পিটিশন দাখিল না করে নিম্ন আদালত এবং ম্যাজিস্ট্রেটের এজলাসেই সংশ্লিষ্ট আইনি বিকল্পের পথ অনুসরণ করা উচিত ছিল।
দিল্লি হাইকোর্টে ঠিক কী সওয়াল-জবাব হল?
বুধবার সকালে সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কার পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে আইনজীবী অভীক চিমনি (Advocate Abhik Chimni) সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২২৬ (Article 226) উদ্ধৃত করে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে যুক্তি পেশ করেন। তাঁদের দাবি ছিল, ম্যাজিস্ট্রেটের কোর্টে বারবার অযৌক্তিক কারণ দেখিয়ে জামিনদার (Bail Sureties) খারিজ করা হচ্ছে এবং তাঁদের অন্যায়ভাবে আটকে রাখা হয়েছে।
তবে শুনানির সময় বিচারপতি সুব্রহ্মণ্যম প্রসাদ আবেদনকারীদের কাছে জানতে চান--
বিকল্প আইনি প্রতিকার (Alternative Legal Remedies): ম্যাজিস্ট্রেটের কোনও আদেশে ক্ষোভ থাকলে সরাসরি হাইকোর্টে আসার পরিবর্তে কেন দায়রা বা আপিল আদালতে (Appellate Court) রিভিশন আবেদন করা হয়নি?
ম্যাজিস্ট্রেটের কোর্টে বিচারাধীন বিষয়: হাইকোর্ট স্পষ্ট মনে করিয়ে দেয় যে, বুধবার দুপুর ২টোয় স্বয়ং SEM কোর্ট তাঁদের জমা দেওয়া নতুন জামিনদারদের যোগ্যতা পুনর্বিবেচনা (Reconsideration of Sureties) করার কথা। ম্যাজিস্ট্রেটের শুনানির আগেই কী ভাবে সরাসরি হাইকোর্টের হস্তক্ষেপ চাওয়া যায়?
কেন পিটিশন প্রত্যাহারের পরামর্শ দিল আদালত?
শুনানি চলাকালীন অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল (ASG) জানান, আইনজীবীদের জামিনদার হিসেবে দাঁড় করানোর মতো একাধিক প্রযুক্তিগত ও আইনি আপত্তি রয়েছে, যা খোদ তদন্তকারী ম্যাজিস্ট্রেটকেই বিবেচনা করতে হবে।
বিচারপতি সুব্রহ্মণ্যম প্রসাদ জানান, হাইকোর্ট এই মামলার গুণমান বা মেরিট (Merits of the Case) নিয়ে কোনA চূড়ান্ত মতামত দিচ্ছে না। তবে যেহেতু এসইএম কোর্টে ইতোমধ্যেই বিষয়টির শুনানি নির্ধারিত রয়েছে, তাই সেখানে গিয়ে লড়াই চালানোই আইনসম্মত হবে। যদি সেখানে সুবিচার না মেলে, তবেই উচ্চতর আপিল আদালতে যাওয়া যাবে। হাইকোর্টের এই ইঙ্গিতের পরেই সিজেপির আইনজীবী আদালতকে জানান যে তাঁরা আবেদন প্রত্যাহার করে নিচ্ছেন।
সিজেপির সামনে এখন কী আইনি পথ খোলা?
আদালত আবেদনটি প্রত্যাহারের অনুমতি দেওয়ায় আপাতত হাইকোর্টের দরজা সাময়িকভাবে বন্ধ হলো ঠিকই, তবে সিজেপি নেতৃত্বের লড়াই থেমে যায়নি।
১. এসইএম আদালতে জামিনের আর্জি: মন্দির মার্গ থানার ম্যাজিস্ট্রেটের এজলাসে জমা দেওয়া নতুন জামিনদারদের গ্রহণযোগ্যতা প্রমাণ করাই এখন তাঁদের প্রধান কাজ।
২. ক্রাইম ব্রাঞ্চের স্ক্যানার: উল্লেখ্য, এর মধ্যেই দিল্লি পুলিস তাঁদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া জোড়া মামলার তদন্তভার স্পেশালাইজড ক্রাইম ব্রাঞ্চের (Crime Branch) হাতে তুলে দিয়েছে। ফলে আইনি জটিলতা বহুগুণ বেড়ে গিয়েছে।
৩. সেশন কোর্টের দ্বারস্থ হওয়া: এসইএম কোর্টের রায় বিপক্ষে গেলে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (BNSS) আওতাভুক্ত রিভিশন বা সেশন কোর্টের শরণাপন্ন হতে হবে তাঁদের।
হাইকোর্টে আবেদন প্রত্যাহারের এই ঘটনায় দিল্লি পুলিসের হাতে কিছুটা আইনি সুবিধা চলে এলো বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)