CJP লিডার সৌরভ দাসের Whatsapp বন্ধ করে দেওয়া হল: কেন? কার নির্দেশে এই সিদ্ধান্ত? কোন ভুলে আপনার whatsapp ও স্তব্ধ হতে পারে? জেনে নিন
CJP Sourav Das Whatsapp restricted: সিজেপি নেতা সৌরভ দাসের হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট আচমকা রেস্ট্রিক্ট বা সীমাবদ্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। পাঠানো যাচ্ছে না নতুন বার্তা। মেটার এই পদক্ষেপ ঘিরে ডিজিটাল নজরদারি ও বাক্স্বাধীনতার বিতর্ক তুঙ্গে।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: মেসেজিং প্ল্যাটফর্মের স্ক্রিনে ভেসে উঠেছে সতর্কবার্তা-- আর কোনও নতুন whatsapp পাঠানো যাবে না। আচমকা থমকে গিয়েছে যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম। আবারও কি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের কোপের মুখে পড়তে হল CJP নেতা, আন্দোলনের পরিচিত মুখকে? সম্প্রতি সমাজমাধ্যম এক্স-এ (X, প্রাক্তন টুইটার) এমনই অভিযোগ তুলেছেন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (Cockroach Janta Party বা CJP)-র সহ-আহ্বায়ক, মুখপাত্র সৌরভ দাস। তাঁর দাবি, মেটা (Meta)-র মালিকানাধীন হোয়াটসঅ্যাপ তাঁর অ্যাকাউন্টের কার্যকারিতা সীমাবদ্ধ (WhatsApp account restricted) করে দিয়েছে। ফলে তিনি কাউকেই কোনও whatsapp পাঠাতে পারছেন না। সরাসরি whatsapp কর্তৃপক্ষকে ট্যাগ করে তাঁর সংক্ষিপ্ত কিন্তু ক্ষুরধার প্রশ্ন-- 'হচ্ছেটা কী?' (What's happening?)
এর পিছনে কি রাষ্ট্রশক্তি না প্রযুক্তির ত্রুটি?
সৌরভ দাসের সঙ্গে এই টানাপড়েন অবশ্য প্রথম নয়। মাসকয়েক আগে, ২০২৬-এর জুলাই মাসেও ছাত্র ও যুব আন্দোলনের আবহে সৌরভের হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট সম্পূর্ণ ব্লক (Account blocked) করে দেওয়া হয়েছিল। তীব্র জনরোষ এবং সামাজিক চাপের মুখে কিছুদিনের মধ্যে সেই অ্যাকাউন্ট ফিরে এলেও, রহস্যের কিনারা হয়নি। এর আগে তাঁর ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডলে রাজনৈতিক কর্মসূচির প্রচারে অদৃশ্য সেন্সরশিপ (Shadowban) আরোপ এবং দিল্লি পুলিসের বিরুদ্ধে তাঁর ফোন বেআইনিভাবে ‘ক্লোন’ করার গুরুতর অভিযোগও তুলেছিলেন তিনি। আদালতের দ্বারস্থ হওয়া এই নেতার ওপর ফের whatsapp রাশ টানায় স্বভাবতই রাজনৈতিক মহলে সংশয় তৈরি হয়েছে।
কেন কারও WhatsApp অ্যাকাউন্ট ‘রেস্ট্রিক্টেড’ হয়?
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণত কোনও অ্যাকাউন্টের বার্তা পাঠানোর অধিকার কেড়ে নেওয়া বা তা সাময়িকভাবে সীমাবদ্ধ করার নেপথ্যে দুটি প্রধান কারণ কাজ করে:
অ্যালগরিদমের স্বয়ংক্রিয় নজরদারি (Automated Content Moderation): অল্প সময়ের মধ্যে বহু মানুষকে বার্তা (Bulk messaging) পাঠালে স্বয়ংক্রিয় বট সেটিকে ‘স্প্যাম’ (Spam) বা সন্দেহজনক কার্যকলাপ বলে চিহ্নিত করে অ্যাকাউন্টের রাশ টেনে দেয়।
সংগঠিত অভিযোগের রাজনীতি (Coordinated Mass Reporting): রাজনৈতিক বা মতাদর্শগত কারণে বিরোধীদের পক্ষ থেকে গণহারে কোনও হ্যান্ডলের বিরুদ্ধে ‘রিপোর্ট’ জমা পড়লে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত ব্যবস্থা আগুপিছু না ভেবেই সাময়িক বিধিনিষেধ আরোপ করে দেয়।
অ্যালগরিদমের ফাঁদ না সুনির্দিষ্ট সেন্সরশিপ?
প্রশ্ন উঠছে, ভারতে সক্রিয় কোনও প্রতিবাদী আন্দোলনের সমন্বয়কের অ্যাকাউন্ট কি স্রেফ স্বয়ংক্রিয় নীতির শিকার, নাকি সরকারি বা রাজনৈতিক অদৃশ্য চাপের (Government compliance or pressure) কাছে মাথা নত করেছে মেটা? অতীতে দেখা গিয়েছে, সোশ্যাল মিডিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব (Lack of transparency) এবং অভিযোগ জানানোর কার্যকর ব্যবস্থার (Grievance redressal) দুর্বলতার কারণে এমন ক্ষেত্রে ভুক্তভোগী ইউজারদের মাসের পর মাস অন্ধকারেই থাকতে হয়।
প্রতিবাদ ও নাগরিক সংগঠনের দাবি, যোগাযোগের প্রধান লাইফলাইন যদি কোনও আগাম নোটিস বা কারণ দর্শানো ছাড়াই স্তব্ধ করে দেওয়া হয়, তবে তা সংবিধানপ্রদত্ত মৌলিক বাক্স্বাধীনতা (Freedom of Speech and Expression)-র ওপর সরাসরি আঘাত। শেষ পর্যন্ত মেটা এই বিধিনিষেধ তুলে নেয় কি না এবং কোনও ব্যাখ্যা দেয় কি না, সেদিকেই এখন নজর সব পক্ষের।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)