WATCH: ভয়ংকর আগ্রাসন কিমের, ক্লাস্টার ওয়ারহেডের মিসাইলেই চালালেন ধ্বংসযজ্ঞ! ড্রোন-টর্পেডা-ক্ষেপণাস্ত্রেই লাগাতার...
উত্তর কোরিয়া কৌশলগত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের জন্য এক নতুন ক্লাস্টার বোমা ওয়ারহেডের পরীক্ষা চালিয়েছে। সেই দেশের সামরিক বাহিনী চলতি বছরের শেষে এরকম বেশ কয়েকটি অস্ত্র মোতায়েন করার টার্গেট নিয়েছে।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: পারমাণবিক অস্ত্রধারী প্রধান দেশগুলোর তালিকায় প্রথম দশে রয়েছে উত্তর কোরিয়া। কিম জং উনের দেশ নিয়মিত তাদের পরমাণু ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে। আর এবার উত্তর কোরিয়া তাদের একটি ট্যাকটিক্য়াল ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের জন্য ক্লাস্টার-বোমা ওয়ারহেডের সফল পরীক্ষা করল। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী যুদ্ধের ময়দানে এর ব্যবহার এবং ধ্বংসক্ষমতা যাচাই করতেই এই পরীক্ষাটি করা হয়েছে। কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি বলছে দেশের মিসাইল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন এই পরীক্ষা করেছে। সেই সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন জেনারেল কিম জং সিক, যিনি ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় সামরিক কমিশনের সদস্য এবং দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির এক বিভাগের প্রথম উপ-পরিচালক। উত্তর কোরিয়া জানিয়েছে, পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে যে তাদের ‘টাইপ-২ স্ট্যান্ডার্ড ক্লাস্টার ওয়ারহেড’ প্রায় ১২ থেকে ১৩ হেক্টর (২৯ থেকে ৩২ একর) এলাকা জুড়ে অত্যন্ত নিবিড়ভাবে ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে পারে।
ক্লাস্টার ওয়ারহেড কী
এক ধরণের বিস্ফোরক অস্ত্র বা ক্ষেপণাস্ত্রের অগ্রভাগ, যা মাঝআকাশে বা নির্দিষ্ট সময়ে বিস্ফোরিত হয়ে চারদিকে ছড়িয়ে দেয় কয়েক ডজন বা শত শত ছোট ছোট বিস্ফোরক । যাদের সাবমিশন বা বোম্বেলেট বলা হয়। একটিমাত্র বড় বিস্ফোরণের বদলে এটি অনেক ছোট ছোট বোমায় বিভক্ত হয়ে বিশাল একটি এলাকাজুড়ে একসঙ্গে আঘাত হানতে পারে।
ব্যাপক পরিকল্পনায় পিয়ংইয়ং
মিসাইল প্রশাসনের প্রধান জানিয়েছেন যে, উত্তর কোরিয়া তাদের ক্লাস্টার ওয়ারহেডগুলিকে চারটি শ্রেণিতে বিভক্ত করেছে, যার মধ্যে রয়েছে সাধারণ এবং বিশেষ উদ্দেশ্যমূলক ধরন।
চলতি বছরের শেষের দিকেই এই চার ধরনের ওয়ারহেডই সামরিক ইউনিটগুলির কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে, যাতে তারা অভিযানের লক্ষ্য এবং লক্ষবস্তুর বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী উপযুক্ত ওয়ারহেড নির্বাচন করতে পারে। এই উৎক্ষেপণ ছিল নিয়মিত বৈজ্ঞানিক গবেষণার অংশ, যার লক্ষ্য হল উত্তর কোরিয়ার অস্ত্র ব্যবস্থার ধ্বংসক্ষমতা বৃদ্ধি করা। কেসিএনএ-এর প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, একটি ভ্রাম্যমাণ প্ল্যাটফর্ম থেকে প্রজেক্টাইল বা ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের সময় কমলা রঙের ধোঁয়া নির্গত হচ্ছে; অন্য একটি ছবিতে একটি দ্বীপের ওপর একাধিক আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে।
ধারাবাহিক অস্ত্র পরীক্ষার অংশ হিসেবেই এই নতুন পরীক্ষা করা হয়েছে। এর আগে উত্তর কোরিয়া বেশ কয়েকটি অস্ত্র ব্যবস্থার পরীক্ষা চালিয়েছিল, যার মধ্যে রয়েছে আক্রমণকারী ড্রোন, নিখুঁত নিশানায় আঘাত হানতে সক্ষম নতুন টর্পেডো ব্যবস্থা এবং মাঝারি পাল্লার হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র। এছাড়া, দুই কোরিয়ার মধ্যকার অত্যন্ত সুরক্ষিত সীমান্তে ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে দক্ষিণ কোরিয়ার তিন সৈন্য আহত হওয়ার ঘটনায় উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটেও এই পরীক্ষা হয়েছে। উত্তর কোরিয়া এই ঘটনার দায় অস্বীকার করেছে এবং জানিয়েছে যে, তারা সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করবে ও লাউডস্পিকারের মাধ্যমে প্রচার শুরু করবে। এই পরীক্ষায় উত্তর কোরিয়ার সর্বাধিনায়ক কিম জং উপস্থিত ছিলেন না। তবে এর আগে এপ্রিল মাসে তিনি তার মেয়ে জু আয়ে-কে সঙ্গে নিয়ে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রে যুক্ত ক্লাস্টার-বোমা ওয়ারহেডের এক পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ দেখেছিলেন।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)