মৃত্যুকে বুড়ো আঙুল! নয়া ওষুধে পেটের ক্যানসারে আক্রান্তদের আয়ু বাড়ল দ্বিগুণ, ট্রায়ালেই মিরাক্যল
Cancer Drug: পেটের ক্যানসার চিকিৎসায় বড় সাফল্য! অ্যাস্ট্রাজেনেকার নতুন ওষুধ ‘সোনেসিটাটুট ভেডোটিন’-এর ট্রায়ালে রোগীদের বেঁচে থাকার সময় দ্বিগুণ হল। ক্যানসার চিকিৎসায় নতুন আশার আলো।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ক্যানসার চিকিৎসায় যুগান্তকারী সাফল্য বিশ্বের অন্যতম প্রধান ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি ‘অ্যাস্ট্রাজেনেকা’র। ব্রিটিশ ফার্মা কোম্পানির তৈরি পরীক্ষামূলক নতুন ওষুধ পেটের ক্যানসারে (Stomach Cancer) আক্রান্ত রোগীদের বেঁচে থাকার গড় সময়কাল দ্বিগুণ করে দিয়েছে। সম্প্রতি ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে এই অভূতপূর্ব ফলাফল সামনে এসেছে। যা বিশ্বজুড়ে ক্যানসার গবেষক ও রোগীদের মধ্যে নতুন আশার আলো সঞ্চার করেছে।
নতুন ওষুধের ট্রায়ালে অভাবনীয় সাফল্য
অ্যাস্ট্রাজেনেকার তৈরি এই পরীক্ষামূলক ওষুধটির নাম ‘সোনেসিটাটুট ভেডোটিন’ (Sonesitatug vedotin)। একটি বিশেষ ধরনের অ্যান্টিবডি-ড্রাগ কনজুগেট (ADC) থেরাপি। মেটাস্ট্যাটিক গ্যাস্ট্রিক (পেটের) ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীদের ওপর ‘ক্লারিটি-গ্যাস্ট্রিক০১’ (CLARITY-Gastric01) নামে ফেজ থ্রি ট্রায়াল চালানো হয়। সেই ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে ৫৩২ জন রোগী অংশ নিয়েছিলেন।
পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে, প্রচলিত কেমোথেরাপির তুলনায় নতুন এই ওষুধে রোগীর বেঁচে থাকার সম্ভাবনা দ্বিগুণ হয়েছে। মৃত্যুর ঝুঁকি ৪২ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে দিয়েছে নয়া ওষুধ। সাধারণ কেমোথেরাপি নেওয়া রোগীরা যেখানে গড়ে মাত্র ৫ মাস বেঁচে ছিলেন, সেখানে নতুন এই ওষুধে রোগীদের বেঁচে থাকার গড় সময় বেড়ে ১০ মাসে পৌঁছেছে—অর্থাৎ বেঁচে থাকার সময়কাল দ্বিগুণ হয়েছে।
যেভাবে এই ওষুধ কাজ করে
নয়া ওষুধটি মূলত ক্যানসার কোষের উপরিভাগে থাকা ‘ক্লুডিন ১৮.২’ (CLDN18.2) নামক প্রোটিনকে লক্ষ্য করে কাজ করে। অ্যান্টিবডি-ড্রাগ কনজুগেট প্রযুক্তির মাধ্যমে ওষুধটি সরাসরি ক্যানসার কোষে গিয়ে আঘাত হানে এবং সুস্থ কোষগুলোর ক্ষতি এড়িয়ে নির্দিষ্ট টিউমার কোষগুলোকে ধ্বংস করে। নয়া এই ওষুধের বিশেষত্ব হল, অতীতে এই ধরনের টার্গেটেড থেরাপির ক্ষেত্রয টিউমারে উচ্চমাত্রায় ‘ক্লুডিন ১৮.২’ প্রোটিনের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক থাকলেও, নতুন এই ট্রায়ালে অপেক্ষাকৃত কম মাত্রায় (২৫% পজিটিভিটি) থাকা রোগীদের মধ্যেও ব্যবহারে সুফল মিলেছে। এর ফলে চিকিৎসার পরিধি আরও অনেক বেশি রোগীর ক্ষেত্রে প্রসারিত হবে।
বিশেষজ্ঞদের মত
অ্যাস্ট্রাজেনেকার অংকোলজি রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের এগজিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট সুসান গালব্রেইথ এই সাফল্যকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ক্ষেত্রে এক বিশাল মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাঁর কথায়, পেটের ক্যানসার অত্যন্ত জটিল একটি রোগ। তার চিকিৎসা পদ্ধতিও কঠিন। সেখানে এই ওষুধ প্রয়োগে রোগীদের বেঁচে থাকার সময় পাঁচ মাস বৃদ্ধি পাওয়া, দ্বিগুণ হওয়া চিকিৎসাক্ষেত্রে এক বিরাট অগ্রগতি।
ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
যদিও রোগের বিস্তারের গতি রোধ করার ক্ষেত্রে ওষুধটি এখনও তার লক্ষ্য পুরোপুরি অর্জন করতে পারেনি, তবুও সামগ্রিকভাবে বেঁচে থাকার সময় দ্বিগুণ বেড়ে যাওয়ায় গবেষকরা আশাবাদী। বিশ্বজুড়ে ক্যানসার চিকিৎসায় এই নতুন থেরাপি যুক্ত হলে তা পেটের ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীদের দীর্ঘায়ু প্রদানে অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
আরও পড়ুন, ইঞ্জেকশন দিতেই শকে মৃত্যু! কলকাতা মেডিক্যালে শিশুমৃত্য়ুর ঘটনায় ৪ সদস্যের তদন্ত কমিটি
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X, Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)