নান্টু হাজরা: ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বেশকিছুদিন ধরেই শিরোনামে উঠে আসছে SRFTI এর নাম। গত সেপ্টেম্বর মাসে ভারতীয় গ্রাহক পঞ্চায়েত হল ভাড়া নিয়ে অনুষ্ঠান করে।তারপরই গোলমালের শুরু। বহিরাগতরা পড়ুয়াদের মারধর করে। পাল্টা অভিযোগ তোলে গ্রাহক পঞ্চায়েতও। পরে ৪ অক্টোবর আর এক দফা ক্যাম্পাসে হামলা চালায় বহিরাগতরা। ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্র হয়ে ওঠে ক্যাম্পাস।
এদিন সেই ঘটনায় ছাত্র আন্দোলনের এক মাস পূর্তি উপলক্ষে একটি মশাল মিছিল বের করা হয়। এরপরেই রাতে বিশাল পুলিস বাহিনী প্রবেশ করে ক্যাম্পাসের মধ্যে। মঙ্গলবার মধ্যরাতে সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট ক্যাম্পাসে ঢোকেন জনা ষাটেক পুলিস কর্মী। তার পর থেকেই নতুন করে দানা বেঁধেছে বিতর্ক। প্রতিবাদে সরব হয়েছেন প্রতিষ্ঠানের পড়ুয়ারা।
সূত্রের খবর, যেহেতু মিছিল চলছিল সেই জায়গায় দাড়িয়ে ভিসি নিরাপত্তার জন্য পুলিসকে জানায়। এরপর পুলিস রাত ১১ টার পর ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে। SRFTI স্টুডেন্ট ইউনিয়নের তরফ থেকে একটি প্রেস রিলিজ দিয়ে বলা হয়, ২৭ অক্টোবর ছাত্ররা শান্তিপূর্ণ মশাল মিছিলের আয়োজন করেছিল, যা সন্ধ্যা ৬:৩০ মিনিটে ক্যাম্পাসের গেটের বাইরে মিছিলের শেষে একটি প্রতিমা পোড়ানোর মাধ্যমে সমাপ্ত হয়।
সেখানে আরও বলা হয়, এই প্রতিবাদ ছিল রাজনৈতিক অভিব্যক্তি এবং গণতান্ত্রিক ভিন্নমত প্রকাশের একটি মাধ্যম। মিছিলটি প্রায় পাঁচ ঘণ্টা আগেই শেষ হয়ে গিয়েছিল, তবুও রাত ১১:৩০ মিনিটে ৬০ জনেরও বেশি পুলিস সদস্য ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে। একটি শান্তিপূর্ণ ছাত্র প্রতিবাদের প্রতি এমন প্রতিক্রিয়ার যৌক্তিকতা নিয়ে এই মোতায়েনের সময় এবং ব্যাপকতা গুরুতর প্রশ্ন তোলে।
আগেই বলিউডের প্রবীণ প্রতিবাদী অভিনেতা নসীরুদ্দীন শাহ সংহতি জানিয়েছিলেন। শাসকের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সকলকে একজোট হওয়ার ডাক দিয়েছিলেন তিনি। ২৭ অক্টোবর, ক্যাম্পাসের বাইরে এসেছিলেন বাঙালি চিত্রপরিচালক কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়। পাশে থাকার বার্তা তিনিও দিয়েছেন এসআরএফটিআই পড়ুয়াদের। কিন্তু ক্যাম্পাসের দরজা খুলে তাঁকে ভিতরে ঢুকতে দেননি নিরাপত্তারক্ষীরা।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X, Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)