একলাফে হাতের বাইরে চলে যাবে সব জিনিসের দাম! মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে ভয়ংকর ভবিষ্যদ্বাণী বিশ্ব ব্যাংকের
Global Commodity Price Hike World Bank: আচমকাই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পক্ষ থেকে এল এক সতর্কবার্তা। যা নিয়ে এখনই কপালে ভাঁজ কোটি কোটি মানুষের। কেন? ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম গত চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। এছাড়াও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে চলছে বিভিন্ন রকম সংঘাতের ঘটনা। এর উপর আছে এল নিনোর প্রভাব। এর জেরে খাদ্যের দাম বাড়ছে। এবার বিশ্বজুড়ে দেখা দেবে মূল্যবৃদ্ধির নতুন চেহারা।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ফের মূল্যবৃদ্ধি! শুধু ভারতে বা পাকিস্তানে নয়। এবার একেবারে বিশ্ব জুড়ে দাম বাড়ছে নানা জিনিসপত্রের। চলতি বছরের শেষ নাগাদ বিশ্ববাজারে পণ্যের দাম ২৩ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে বিশ্ব ব্যাংক। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম গত চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। এছাড়াও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে চলছে বিভিন্ন রকম সংঘাতের ঘটনা। এর উপর আছে এল নিনোর প্রভাব। এর জেরে খাদ্যের দাম বাড়ছে। সব মিলিয়ে এই পরিস্থিতিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পক্ষ থেকে এই সতর্কবার্তা এল। যা নিয়ে এখনই কপালে ভাঁজ কোটি কোটি মানুষের।
আরও পড়ুন: লম্বা সময়ের কাজ কয়েক মিনিটেই? AI স্টক রিসার্চ কী
'কমোডিটি মার্কেটস আউটলুক'
বুধবার বিশ্ব ব্যাংকের 'কমোডিটি মার্কেটস আউটলুক' প্রতিবেদন প্রকাশের সময় দেওয়া এক বিবৃতিতে বিশ্ব ব্যাংকের এক কর্তা অর্থনীতিবিদ আয়হান কোসে বলেন, 'পণ্যের বাজার একসঙ্গে বেশ কয়েকটি বড় ধাক্কার মুখে পড়ছে। জ্বালানির বাড়তি খরচ ও বাণিজ্যে বাধার কারণে নানা ধরনের পণ্যের দাম বাড়ছে। এতে মূল্যস্ফীতি ও খাদ্যবস্তু পাওয়ার অনিশ্চয়তা বাড়ছে। এর জেরে অর্থনৈতিক বৃদ্ধিও কমে যেতে পারে।'
২০২৬ সালের শেষে
২০২৬ সালে খাদ্যের দাম ১০ শতাংশ বাড়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। আগামী বছর আরও ৭ শতাংশ বাড়তে পারে। এর কারণ, সংঘাতের কারণে খাদ্যশস্য সরবরাহের পথে বাধা পড়েছে। এ ছাড়াও তীব্র এল নিনোর কুপ্রভাব। জ্বালানি ও সারের চড়া দামের মতো বিষয়টি তো রয়েছেই।
জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি
বিশ্ব ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছর জ্বালানির দাম ৩২ শতাংশ বাড়তে পারে। এরপর ২০২৭ সালে দাম কিছুটা কমতে পারে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর থেকে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম ও সারের দাম হু হু করে বেড়েছে। এই যুদ্ধের ফলে মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে হিংসা ছড়িয়ে পড়েছে। এই অঞ্চলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের উপর হামলা চালায় ইরান। ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলও কার্যত আটকে দেয়।
ছাড়িয়ে যাবে ২০২২ সাল-কে
বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে, এল নিনো খুব শক্তিশালী হলে কিংবা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যে কৃষ্ণসাগরে খাদ্যশস্যের উপর হামলা বাড়লে 'খাদ্যসংকট' দেখা দিতে পারে। ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম আরও বেড়ে গেলেও এমন সংকট হতে পারে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিকূল পরিস্থিতিতে এই আশঙ্কাগুলি একসঙ্গে বাস্তব হলে ২০২৭ সালে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের ব্যারেল প্রতি গড় দাম ১০৫ মার্কিন ডলার হতে পারে। খাদ্যপণ্যের দামও মূল পূর্বাভাসের চেয়ে ১২ শতাংশ বেশি হতে পারে। এতে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের মাত্রাও ছাড়িয়ে যাবে।
এল নিনো কী?
এল নিনো প্রাকৃতিকভাবে ঘটে, এমন একটি আবহাওয়াগত ঘটনা। এর প্রভাবে এ বছর পৃথিবীর বড় অংশে তাপমাত্রা বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এটি মানুষের কারণে সৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবকে আরও বাড়িয়ে দেবে। এর প্রভাবে বিভিন্ন অঞ্চলে খাদ্য উৎপাদনকারীদের আরও বেশি বন্যা, খরা ও অতিরিক্ত গরমের চাপের মুখে পড়তে হতে পারে।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X, Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)